বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিভিন্ন ক্যাম্পে শত শত বাংলাভাষী নারী, শিশু ও পুরুষকে রহস্যজনকভাবে জড়ো করার খবর পাওয়া গেছে। ভারতের অভ্যন্তরে পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হওয়া এসব মানুষকে বলপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জোরালো আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ঠাকুরগাঁও সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্তবর্তী নির্ভরযোগ্য সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার বেশ কয়েকটি বিএসএফ ক্যাম্পে ১২ থেকে ২০ জন এবং কিছু কৌশলগত ক্যাম্পে ৩০ থেকে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে দলে দলে এনে আটকে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তের ওপারে ভারতের ভেলাগাছি, সোনামতি, নাটুয়াটলি, বড়বিল্লা ও সাতভিঠা বিএসএফ ক্যাম্পে চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে শত শত বাংলাভাষী মানুষ দিন কাটাচ্ছেন, যাদেরকে যেকোনো মুহূর্তে শূন্যরেখা (জিরো লাইন) দিয়ে পুশইনের ছক কষছে বিএসএফ।
এই চরম সংবেদনশীল ঘটনার পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবির ৫০ ব্যাটালিয়নের অধীন কান্তিভিটা ক্যাম্প এলাকাসহ বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার প্রতিটি অরক্ষিত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে সশস্ত্র টহল, রাত্রিকালীন নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সোর্স অ্যাক্টিভিটি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
বিএসএফ-এর সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা এবং বিজিবির প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
আটকে পড়ার ঘটনা: গত বৃহস্পতিবার ভারতের উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জ এলাকার বিপরীতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধসহ মোট ১১ জন বাংলাভাষীকে বিএসএফ জিরো লাইনে পুশইন করার চেষ্টা করে।
মানবেতর ৪৮ ঘণ্টা: বিজিবির কঠোর ও অনড় অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের দেশের ভেতরে ঢোকাতে পারেনি, আবার বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশেও আসতে পারেনি। ফলে টানা ৪৮ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করেন তারা।
বিএসএফ-এর পিছুটান: অবশেষে দীর্ঘ ফ্ল্যাগ মিটিং ও বিজিবির কঠোর আইনি অবস্থানের মুখে রোববার গভীর রাতে ওই ১১ জনকে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে প্রতিটি বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) অতিরিক্ত জোয়ান ও আধুনিক লজিস্টিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজির আহম্মদ গণমাধ্যমকে জানান, "সীমান্তের ওপারের প্রতিটি গতিবিধি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বিজিবি সদস্যরা দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখে দিতে ২৪ ঘণ্টা সর্বোচ্চ সতর্ক ও যুদ্ধংদেহী অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় সীমান্তবাসীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"
মন্তব্য করুন